কলকাতার হাতে টানা রিকশা

1.17K কলকাতার ইতিহাস 15 hours ago

সূচনা থেকে বর্তমান, এক হারিয়ে যেতে বসা পেশার ইতিহাস

এক সময় কলকাতার রাস্তায় যাতায়াতের পরিচিত মাধ্যম ছিল হাতে টানা রিকশা। আজ মেট্রো, বাস, টোটো ও অ্যাপ-ক্যাবের যুগে সেই রিকশার সংখ্যা কমেছে। তবুও উত্তর কলকাতার কিছু পুরনো গলি ও বড়বাজারের আশপাশে এখনও দেখা যায় এই ঐতিহাসিক যান। এর পিছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক ইতিহাস, জীবিকার লড়াই এবং মানুষের শ্রমের এক দীর্ঘ কাহিনি।

কলকাতার পুরনো গলিতে সকালে কিংবা বিকেলে হাঁটতে গেলে কখনও কখনও চোখে পড়ে পরিচিত একটি দৃশ্য। দু’টি বড় চাকার উপর কাঠের তৈরি রিকশা। সামনে দুটি হাতল ধরে ধীরে ধীরে হেঁটে চলেছেন একজন মানুষ। পিছনে বসে রয়েছেন যাত্রী। রাস্তার ধারে পুরনো বাড়ি, ছোট দোকান আর ব্যস্ত জনজীবনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে রিকশাটি।

আধুনিক কলকাতায় এই দৃশ্য ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে। কিন্তু শহরের ইতিহাসের সঙ্গে হাতে টানা রিকশার সম্পর্ক এতটাই গভীর যে, একে বাদ দিয়ে পুরনো কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার গল্প সম্পূর্ণ হয় না।

তবে এই গল্পকে শুধু নস্টালজিয়ার চোখে দেখলে চলবে না। কারণ রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু মানুষের জীবন, যাঁরা প্রতিদিন নিজের শারীরিক শক্তির উপর নির্ভর করে সংসার চালান।

হাতে টানা রিকশার জন্ম কোথায় ?

হাতে টানা রিকশার উৎপত্তি কলকাতায় নয়, জাপানে। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সেখানে এই ধরনের হালকা, দুই চাকার যানের প্রচলন শুরু হয়। ১৮৬৯ সালকে সাধারণত রিকশার আবিষ্কারের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

রিকশা শব্দটির উৎস জাপানি শব্দ জিনরিকিশা (Jinrikisha)। শব্দটির অর্থ মানুষের শক্তিতে চালিত যান। পরে এই যান চিন এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতে অবশ্য মানুষের কাঁধে করে যাত্রী বহন করার রীতি আরও পুরনো। পালকি ছিল সেই ব্যবস্থার পরিচিত উদাহরণ। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় জমিদার, ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্তদের যাতায়াতে পালকির ব্যবহার দেখা যেত। পরবর্তী সময়ে ঘোড়ার গাড়ি, ট্রাম, রেল এবং রিকশার মতো পরিবহণের প্রসার ঘটে।

হাতে টানা রিকশার বিশেষত্ব ছিল, একজন মানুষই হাতল ধরে হেঁটে যাত্রীকে নিয়ে যেতে পারতেন। শহরের সরু রাস্তা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই যান ব্যবহার করা সুবিধাজনক ছিল।

কলকাতায় হাতে টানা রিকশা কবে শুরু হয় ?

কলকাতায় হাতে টানা রিকশার সূচনার সঠিক বছর নিয়ে বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়। কয়েকটি ঐতিহাসিক বিবরণে উনিশ শতকের শেষভাগের কথা বলা হয়েছে। কলকাতা বিশেষজ্ঞ হরিপদ ভৌমিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে ১৮৯০ সালে চিন থেকে রিকশার কাঠের সংস্করণ কলকাতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এই নির্দিষ্ট সালকে সর্বসম্মত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। রিকশার আগমন এবং শহরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়া এক ঘটনা নয়।

কলকাতার চিনা অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই যানটির প্রসারের সম্পর্ক রয়েছে বলে ইতিহাসভিত্তিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হিসেবে কলকাতায় তখন ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন এবং জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটছিল। ফলে শহরে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য নতুন পরিবহণের প্রয়োজনও বাড়ছিল।

১৯১৯ সালে Calcutta Hackney-Carriage Act চালু হওয়ার মাধ্যমে হাতে টানা রিকশা কলকাতায় ভাড়ায় যাত্রী পরিবহণের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়। এই আইন শহরে রিকশার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

১৯৩৩ সালে প্রায় ৬,০০০ হাতে টানা রিকশাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল বলে কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য কলকাতায় রিকশার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি ধারণা দেয়।

কেন কলকাতার সঙ্গে হাতে টানা রিকশার এত গভীর সম্পর্ক?

কলকাতার ভৌগোলিক গঠন এবং পুরনো বসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে হাতে টানা রিকশার সম্পর্ক রয়েছে।

উত্তর কলকাতার অনেক গলি তুলনামূলক সরু। কোথাও পুরনো বাড়ি, কোথাও ঘনবসতিপূর্ণ পাড়া, আবার কোথাও রাস্তার দু’পাশে দোকান ও বাজার। এই ধরনের এলাকায় বড় গাড়ি নিয়ে চলাচল সব সময় সহজ নয়।

একসময় বাড়ি থেকে বাজার, কাছাকাছি রেলস্টেশন কিংবা অন্য কোনও গন্তব্যে পৌঁছতে মানুষ হাতে টানা রিকশার উপর নির্ভর করতেন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রিকশার ব্যবহার ছিল পরিচিত।

বর্ষাকালে কলকাতার কিছু নিচু এলাকায় জল জমে গেলে রিকশা কোনও কোনও ক্ষেত্রে যাতায়াতের বিকল্প হয়ে উঠত। তবে সব জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে রিকশা চলতে পারে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

আরেকটি বিষয় ছিল কর্মসংস্থান। এই পেশায় প্রবেশের জন্য আধুনিক যানবাহনের মতো প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা বড় মূলধনের প্রয়োজন হত না। ফলে গ্রাম থেকে শহরে কাজের সন্ধানে আসা বহু শ্রমিক রিকশা টানার কাজ বেছে নিতেন।

রিকশাচালকদের জীবন: শহরের আড়ালে থাকা বাস্তবতা

কলকাতার হাতে টানা রিকশার ইতিহাসে চালকদের কথা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই পেশায় যুক্ত বহু মানুষ বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে কলকাতায় এসেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শহরে বসবাস করছেন। কেউ কেউ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করতে আসেন।

সব চালকের নিজের রিকশা নেই। অনেক ক্ষেত্রে রিকশার মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে তাঁরা রাস্তায় নামেন। দিনের উপার্জন থেকে খাবার, বাসস্থান এবং রিকশার ভাড়া মেটানোর পর হাতে কতটা টাকা থাকে, তা নির্ভর করে যাত্রীসংখ্যা ও কাজের সময়ের উপর।

২০২৪ সালের জুন মাসে ডিডি ইন্ডিয়ার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উত্তর কলকাতার রিকশাচালকদের গরমের মধ্যে কাজ করার কষ্টের কথা উঠে এসেছিল। একজন চালক জানিয়েছিলেন, দুপুর পর্যন্ত তাঁর আয় হয়েছিল মাত্র ১৫০ টাকা। অন্য এক চালক দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে রিকশা টানার অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন।

এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রিকশা চালানো শুধু শারীরিক পরিশ্রমের কাজ নয়, অনিশ্চিত আয়ের সঙ্গেও জড়িত।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ সময় হাঁটা, ভার বহন করা এবং গরমের মধ্যে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অথচ অনেক চালকের সামনে অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে তাঁরা সমস্যার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যান।

২০০৬ সালে রিকশা বন্ধের উদ্যোগ

হাতে টানা রিকশা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একজন মানুষকে নিজের শারীরিক শক্তি দিয়ে অন্য একজন মানুষকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, এই দৃশ্যকে অনেকে মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী বলে মনে করেন।

এই প্রশ্ন থেকেই ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার হাতে টানা রিকশা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ওই বছর Calcutta Hackney-Carriage (Amendment) Bill আনা হয়। ১৯১৯ সালের পুরনো আইনি কাঠামো বাতিল করার উদ্যোগের সঙ্গে রিকশাচালকদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও যুক্ত ছিল।

কিন্তু পেশাটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে পড়ে। যাঁরা এই কাজের উপর নির্ভর করে সংসার চালান, তাঁদের পরবর্তী জীবিকার ব্যবস্থা কী হবে?

রিকশাচালকদের একাংশের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, আর্থিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে হাতে টানা রিকশা পুরোপুরি শহর থেকে উধাও হয়ে যায়নি।

পরবর্তী বছরগুলিতে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ থাকলেও কিছু এলাকায় রিকশার চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে আইনি অবস্থা, লাইসেন্স এবং বাস্তবে রাস্তায় চলাচলের বিষয়গুলি আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

২০২৬ সালে কলকাতার হাতে টানা রিকশার বর্তমান অবস্থা

আজকের কলকাতায় হাতে টানা রিকশা আগের তুলনায় অনেক কম দেখা যায়। বাস, মেট্রো, অটো, টোটো এবং অ্যাপভিত্তিক পরিবহণের প্রসারের ফলে শহরের মানুষের যাতায়াতের অভ্যাস বদলেছে।

২০২৪ সালের ৩ জুন The Statesman-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অল বেঙ্গল রিকশা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুকতার আলির বক্তব্য অনুযায়ী, তখন কলকাতায় প্রায় ৩,৫০০ হাতে টানা রিকশা চলছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, বিভিন্ন পুরনো গবেষণায় আরও বেশি সংখ্যার হিসাব পাওয়া যায়। এই পার্থক্যের কারণ হতে পারে তথ্য সংগ্রহের সময়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন রিকশার হিসাব এবং বিভিন্ন এলাকার অন্তর্ভুক্তি।

২০২৬ সালের জন্য কলকাতায় ঠিক কতগুলি হাতে টানা রিকশা চলছে, তার নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ সরকারি সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই পুরনো পরিসংখ্যানকে বর্তমান সংখ্যা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

তবুও শহরের কিছু এলাকায় এই রিকশা এখনও চোখে পড়ে। বড়বাজার, বুররাবাজার, কলেজ স্ট্রিটের আশপাশ, মানিকতলা এবং উত্তর কলকাতার কিছু পুরনো গলিতে এর উপস্থিতির কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সব রাস্তায় এদের চলাচল অনুমোদিত নয়।

রিকশাচালকদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হল যাত্রী কমে যাওয়া। আগে যে দূরত্বে মানুষ রিকশা নিতেন, এখন সেখানে অনেকেই অটো বা টোটো বেছে নেন। ফলে রাস্তায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক চালককে অল্প আয়ে দিন শেষ করতে হয়।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে চালকদের দৈনিক আয় কমে যাওয়া, কাজের সময় এবং রিকশার মালিককে ভাড়া দেওয়ার সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। এই পরিস্থিতি দেখায় যে, পেশাটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।

ঐতিহ্য রক্ষা, নাকি মানুষের মর্যাদা?

কলকাতার হাতে টানা রিকশা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দুটি দিক সামনে আসে।

প্রথমটি হল শহরের ইতিহাস। এই রিকশা কলকাতার ঔপনিবেশিক অতীত, পুরনো রাস্তা এবং পরিবহণ ব্যবস্থার একটি পরিচিত চিহ্ন। এর নির্মাণপদ্ধতি, রিকশার কারিগরদের কাজ এবং চালকদের অভিজ্ঞতা শহরের সামাজিক ইতিহাসের অংশ।

দ্বিতীয়টি হল মানবিক মর্যাদা ও শ্রমের প্রশ্ন। একজন মানুষকে নিজের শরীরের শক্তিতে অন্য একজনকে টেনে নিয়ে যেতে হয়। শুধু পুরনো কলকাতার ছবি বা পর্যটকদের আগ্রহের কথা ভেবে এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা যায় না।

রিকশা বন্ধ করা বা চালু রাখার প্রশ্নে চালকদের জীবিকার বিষয়টি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা ছাড়া হঠাৎ করে পেশাটি বন্ধ করে দিলে বহু পরিবার সমস্যায় পড়তে পারে।

একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য চালকদের মতামত নেওয়া, তাঁদের বর্তমান আয়ের অবস্থা বোঝা এবং যাঁরা অন্য পেশায় যেতে চান তাঁদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে হাতে টানা রিকশার ইতিহাস সংরক্ষণ করা যেতে পারে জাদুঘর, আলোকচিত্র, মৌখিক ইতিহাস এবং নথিভুক্তির মাধ্যমে। এতে শহরের ঐতিহ্যও থাকবে, আবার সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের জীবনকেও গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে।

কলকাতার হাতে টানা রিকশা এক সময় শহরের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। আজ তার উপস্থিতি সীমিত। আধুনিক পরিবহণের বিস্তার এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এই পেশা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে এসেছে।

তবুও পুরনো কলকাতার কোনও গলিতে হাতে টানা রিকশা দেখলে শহরের অতীতের একটি ছবি যেন সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু সেই ছবির পিছনে রয়েছেন একজন মানুষ, যাঁর কাছে রিকশা শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, সংসার চালানোর মাধ্যম।

কলকাতার ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি তাঁদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবা দরকার। কারণ শহরের ইতিহাস শুধু পুরনো বাড়ি, রাস্তা বা যানবাহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেই ইতিহাস বহন করেন সাধারণ মানুষও, যাঁদের শ্রমে শহরের দৈনন্দিন জীবন এগিয়ে চলে।

হাতে টানা রিকশার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা উচিত চালকদের মর্যাদা, জীবিকা এবং বাস্তব পরিস্থিতি।

Latest Update