হোলি মানেই রঙের উচ্ছ্বাস, আবিরের খেলায় মেতে ওঠা আর বসন্তের আনন্দ। কিন্তু ভারতের বহু শহরের ভিড়ের মাঝেও একেবারে আলাদা করে চোখে পড়ে কলকাতা। কারণ এখানে হোলি শুধু উৎসব নয় – এ এক জীবন্ত ইতিহাস, যা আজও রাজকীয় মর্যাদায় পথ চলে।
এই অনন্য উৎসবের নাম রোলস রয়েস হোলি।
প্রায় একশো বছরের পুরনো একটি রোলস রয়েস গাড়ি। সাধারণত যেখানে এই গাড়ি রাজা-মহারাজা বা অভিজাত ব্যক্তিত্বদের প্রতীক, সেখানে কলকাতায় এই গাড়িই হয়ে ওঠে ভক্তির বাহন। ফুল, আবির আর আলোর সাজে সজ্জিত রোলস রয়েসের ওপর স্থাপন করা হয় রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ। সেই গাড়িতেই শুরু হয় দোলযাত্রা। এই দৃশ্য শুধু চমকপ্রদ নয় এ যেন সময়ের দুই প্রান্তকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলা।

এই ব্যতিক্রমী দোলযাত্রার সূচনা হয় শহরের প্রাচীন ধর্মীয় কেন্দ্র সত্যনারায়ণ জীউ মন্দির থেকে। ভোর থেকেই মন্দির চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে কীর্তন, শঙ্খধ্বনি আর আবিরের রঙে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন , এই যাত্রা শুধু উৎসব নয়, এটি এক পবিত্র পরম্পরা।
রোলস রয়েসে চেপে রাধাকৃষ্ণের দোলযাত্রা যখন এগোতে থাকে, তখন তার পথ সাক্ষী হয় কলকাতার চেনা ব্যস্ততা। শত শত মানুষ শোভাযাত্রার সঙ্গে হাঁটেন, কেউ আবির ছোঁড়েন, কেউ ঢাক বা কাঁসর বাজান।
সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে, যখন এই রাজকীয় গাড়ি অতিক্রম করে হাওড়া ব্রিজ। আধুনিক শহরের কোলাহলের মাঝেই যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে যায় সময় চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে কলকাতার ঐতিহ্য।
নাম শুনে অনেকেই ভাবতে পারেন এটি কোনও অভিজাত বা বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ ভিন্ন। রোলস রয়েস হোলি আসলে সাধারণ মানুষের উৎসব। এখানে নেই টিকিট, নেই আমন্ত্রণপত্র। ধর্ম, শ্রেণি বা পেশার ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একসঙ্গে রঙে মেতে ওঠেন। এই উৎসবের মূল শক্তি মানুষের অংশগ্রহণ আর বিশ্বাস।
কেন এই হোলি আলাদা
কারণ, খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়:
- শতাব্দীপ্রাচীন Rolls-Royce গাড়িতে দোলযাত্রা
- রাজকীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন
- শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ধর্মীয় শোভাযাত্রার এমন অভিনব রূপ

রোলস রয়েস হোলি প্রমাণ করে, কলকাতা শুধু অতীতকে স্মরণ করে না সে অতীতকে বাঁচিয়ে রাখে উৎসবের মাধ্যমে। রঙের আবরণে ঢাকা এই রাজকীয় যাত্রা আসলে কলকাতার আত্মপরিচয়ের প্রতিচ্ছবি যেখানে ইতিহাস, বিশ্বাস আর মানুষের আনন্দ এক হয়ে যায়। দোলের দিনে এই দৃশ্য দেখা মানে শুধু একটি উৎসব দেখা নয় কলকাতাকে নতুন করে অনুভব করা।
All Images Credit by : Debraj Biswas

