ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কলকাতা :- সম্প্রতি এক বর্ণাঢ্য ও সুশৃঙ্খল পেজেন্টা শো-এর আয়োজন করা হয় মিলেনিয়াম পার্কে ময়ূরপঙ্খয়ী-তে। গঙ্গাবক্ষ একটি অভাবনীয় র্যাম্প শো-এর ( ফ্যাশন আইকন সিজন থ্রি) আয়োজন করে কৃষ ড্যান্স একাডেমী কর্ণধার মিতালি ভট্টাচার্য। পড়ন্ত বিকেলে হাওড়া ব্রিজের তল দিয়ে যখন ভেসে যায় লঞ্চ আর ঠিক তার উপরে অনুষ্ঠানের এমন একটি দৃশ্য যান মন কেড়ে নেয় সকলের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ডেপুটি কমিশনার গৌতম কুমার দাস, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কনভেনর প্রদীপ অধ্যা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনার সেক্রেটারি অরূপ মুখার্জি মহাশয়। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডি.এস. প্রোডাকশনের কর্ণধার শর্মিষ্ঠা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এ.আয়. টি.টি.এ ক্লাবের কর্ণধার জয়ন্ত দাশগুপ্ত।
বিচারক মন্ডলীর ভূমিকায় ছাড়লেন পামেলা পালদাস ও পারমিতা ব্যানার্জী। এখানে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে প্রতিযোগীরা তাদের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটান। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি করে। কিডস বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে অদিতি কালসা। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাস বিচারকদের মুগ্ধ করে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে ধ্রুবি প্রসাদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে সানভি বৈরাগী।টিন বিভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য প্রথম স্থান পান আস্মি রায়। দ্বিতীয় স্থানে থাকেন সৃজা বিশ্বাস এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন সৌম্য আগরওয়াল। মিসেস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন পরমিতা আইচ। তার পরিপক্বতা ও সৌন্দর্যের সমন্বয় প্রশংসিত হয়। দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন রানী দাস এবং তৃতীয় স্থানে থাকেন মঞ্জু মোদি। মিস বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন মিতা মুখেরজ্জী। দ্বিতীয় স্থান পান মৌসুমি বিশ্বাস এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন অনন্যা বিশ্বাস। মিস্টার বিভাগে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনার জন্য প্রথম স্থান লাভ করেন মৃন্ময় দে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন দেবার্পন সেনগুপ্ত এবং তৃতীয় স্থান পান শিবরাজ চক্রবর্ত্তী।

এই পেজেন্টা শো প্রতিযোগীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আত্মপ্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও এখানে মিতালি ভট্টাচার্য ড্রেসের ওপর একটি রানওয়ে হয় যেখানে মূলত চটের বস্তা দিয়ে নতুন ধরনের পোশাক দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছে। কিডস বিভাগের পোশাক উপস্থাপনা করেন সানু পাকিরা। এটিতে শো স্টপার হিসেবে দেখা যায় রিমি(কিডস বিভাগে), সম্পা দাস ও শোভনা চৌধুরি-কে।সব মিলিয়ে গঙ্গার বুকে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য পেজেন্টা শো শুধু একটি প্রতিযোগিতাই নয়, হয়ে উঠেছিল সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনমেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শৈল্পিক ভাবনা ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। প্রতিযোগীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ভাবনায় চটের পোশাকের উপস্থাপনা ছিল বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। গঙ্গার তীরে এই অনন্য সন্ধ্যা নিঃসন্দেহে ফ্যাশন ও সংস্কৃতির এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।

